বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এম.পি বলেছেন, "ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হবে পল্লীতথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে ৷ পল্লীতথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ঘরে বসে সকল তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে ৷ ঘরে বসে কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ই-মেইল এর সুবিধা পেতে হলে তথ্য কেন্দ্রের প্রয়োজন ৷ পল্লীতথ্য কেন্দ্রের লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জ্ঞানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করা এবং তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা ৷ এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রতিটি অঞ্চলে ও ইউনিয়নে তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে ৷" গত ২০ এপ্রিল,০৯ তারিখে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় ওয়াফ পল্লীতথ্য কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন ৷
তিনি আরো বলেন, সরকার ইতোমধ্যে তথ্য অধিকার আইন চালু করেছে ৷ পল্লীতথ্য কেন্দ্র-ই হচ্ছে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নের একমাত্র মাধ্যম ৷ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে লন্ডন, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে সহজে যোগাযোগ করার যে স্বপ্ন ছিল সেটা এখন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে ৷ এখন পল্লীতথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে যে কেউ বিশ্বের যেকোন খবর পেতে পারেন ৷
ওয়াফ-এর সহ-সভাপতি জনাব সৈয়দ মোঃ রশিদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জনাব মোঃ মফিজুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক, মৌলভীবাজার ; জনাব এ.কে.এম ফাহিম মাশরুর, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিডি জবস্ ডট কম এবং সভাপতি কার্যনিবাহী কমিটি ডি.নেট ; জনাব মোঃ শাহজাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), মৌলভীবাজার ; এ.জেড.এম নুরুল হক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কুলাউড়া ; জনাব অজয় কুমার বসু, হেড, ইনষ্টিটিউশনাল অ্যাফেয়ার্স, ডি.নেট ; জনাব মোঃ শাহাজাহান মিয়া এ,এস, পি কুলাউড়া সার্কেল ; জনাব মোঃ আব্দুল মালিক, চেয়ারম্যান ৯ নং টিলাগাঁও ইউ, পি ; জনাব মোঃ ফারুক আহমদ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কুলাউড়া প্রমূখ ৷
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনাব মোঃ আব্দুল মালিক, নির্বাহী পরিচালক,ওয়াফ ৷ এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন ৷
জনাব এ,কে,এম ফাহিম মাশরুর বলেন, পল্লীতথ্য কেন্দ্র মানুষের জীবনযাপন ও যোগাযোগকে অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলবে ৷ তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, "আজকের এই প্রধান অতিথিকে (মাননীয় চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এম.পি) আপনারা হয়তো সব সময় পাচ্ছেন না ৷ উনাকে যদি আপনাদের অভাব অভিয়োগ শুনাতে চান তাহলে আপনারা অতি সহজে যে কোন সময় এ পল্লীতথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্স করে আপনাদের সুখ দুঃখের কথা বলতে পারেন ৷ এ জন্য আপনাদেরকে কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না ৷ পল্লীতথ্য কেন্দ্রে আসলেই হবে ৷ এভাবে আপনাদের জীবনের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ই খুব সহজভাবে অত্র পল্লীতথ্য কেন্দ্রে সেবা পাওয়া যাবে ৷"
তিনি আরো বলেন, গ্রামীন জনগোষ্ঠির জন্য এটা একটা বিরাট সুযোগ৷ এতে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে, ক্ষতির পরিমাণ কমবে৷ দারিদ্র বিমোচনে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে ৷
জনাব অজয় কুমার বসু পল্লীতথ্য কেন্দ্রের কার্যক্রম উপস্থাপন করতে গিয়ে বলেন, পল্লীতথ্য কেন্দ্র হল প্রযুক্তিভিত্তিক তথ্য ও জ্ঞান আহরণের সামাজিক কেন্দ্র ৷ তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে তথ্য ও পরামর্শ সেবা গ্রহণ করে কৃষকসহ সাধারণ মানুষ জীবন যাত্রার ঝুঁকি ও ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে পারেন ৷
তিনি পল্লীতথ্য কেন্দ্রের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম, পরিচালনা পদ্ধতি, সেবাসমূহ সবার সামনে তুলে ধরেন ৷ পাশাপাশি তিনি ডি.নেট কর্তৃক সহযোগিতা প্রাপ্ত মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ও সিলেট বিভাগে ওয়াফ পল্লীতথ্য কেন্দ্রসহ মোট ৩ টি কেন্দ্র রয়েছে বলে সকলকে অবহিত করেন ৷